Thursday, July 16, 2020

ছড়াঃ খুকুমনি
হাকিকুর রহমান 

আয়রে খুকু ঘরে আয়
মাঠে খেলে দখিন বায়,
সাতটা কাকে দাঁড় বায়
ধেড়ে শেয়াল কি গান গায়।
কুঁচে মুরগী নড়ে চড়ে
তিন গন্ডা ডিম পাড়ে,
টিনের ছাঁদে ঢিল পড়ে
ভয়েতে প্রাণ রয়না ধড়ে।
বুড়ো শকুন তাল গাছে
মাঠের দিকে চেয়ে আছে,
মরা গরু নেইতো কাছে
খেতে হবে শাঁকে মাছে।
ঝিকু ঝিকু রেলের গাড়ি
যাবা নাকি মামার বাড়ি,
খেতে পাবা রসের হাড়ি
নেইতো কোন কাড়া কাড়ি।
পরিপাটি করো কেশ
লাগবে তাতে আরও বেশ,
কথার আমার রইল রেশ
ঘ্যাচাং করে হইল শেষ!
মনুষ্যত্ব
হাকিকুর রহমান 

পাত্র-মিত্র, গোত্রের বিবেধ ভুলি,
মনুষ্যত্বকে সবার উপরে তুলি।
সিঞ্চিত করি তপ্ত ধরাকে
গাহি সাম্যের গান,
বহিত হউক শান্তির সুবাতাস
জাগরিত হউক প্রাণ।
উন্নীত করি চিন্তা-চেতনা
বাড়াই সহযোগিতার হাত,
হৃদয়ে জ্বালি অহিংসার আলো
সফলতায় ভরুক প্রতি প্রাত।
সমৃদ্ধি করি প্রতিটি অন্তর
আসুক ধরাতে শান্তি,
সহমর্মিতায় ভরুক চারিদিক
ঘুঁচাক সকল বিভ্রান্তি।
প্রকৃতি
হাকিকুর রহমান 

হঠাৎ হাওয়ার দোলায়
দুলে উঠলো ঢ্যাপের ফুলটা-
আকাশী নীল শাড়ি পরা মেয়েটা এসে,
দু’হাত দিয়ে টেনে উঠিয়ে নিয়ে যাবে ওকে,
ভর দুপুর পেরুনোর আগেই খাবার হয়ে যাবে সে।
মালতীগাঁও থেকে এসেছে
কতগুলো ছেলে-বুড়ো, গ্রাম উজাড় করে,
তারাও যে যার মতো ঝাঁপিয়ে পড়েছে ঝিলের জলে,
পোনা, টাকি, শোল, খলসে
যাকিছু আছে, আজকে লোপাট হবে,
মেঘের ক্রোধ গর্জে ওঠার আগেই সব শুনশান।
নলখাগড়ার ডালে ঝুলে থাকা
মাছরাঙ্গাটাও প্রমাদ গোনে-
রাতের খাবারের তরে কিছু রইল না আর বাকি।
ওদিকে অবহেলায় পড়ে থাকা কাকড়াগুলো,
শুকনো দীর্ঘশ্বাস ফেলে চায় গগনের পানে,
আর কয়, “একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে চাই!”
জলের কন্যা
হাকিকুর রহমান

জলের কন্যা চলিছে গেহতে
সিনান করিবার পরে,
স্নিগ্ধ ছায়াবীথি তাই চেয়ে রয়
তাহারে হেরিবার তরে।
মাতাল বাতাস ঘুরিছে সেথায়
ছড়ায়ে শরীরের ঘ্রাণ,
রূপার নূপুর পায়েতে বাজিছে
জুড়ায়ে যায় মন-প্রাণ।
কাজল মেখেছে দুই নয়নে
খোঁপাতে গুঁজেছে ফুল,
আলতা রাঙানো পায়েতে চলিছে
কানেতে দিয়েছে দুল।
নয়নে ভরেছে কোন ফটিকজল
কতনা গভীর মায়া,
ডাহুক-ডাহুকী গাহিয়া ফিরিছে
সোনা রং ভরা কায়া।
হাতছানি
হাকিকুর রহমান

গহন অরণ্য হাতছানি দিয়া ডাকে,
পাতায় পাতায় ভরা তরুলতায়
কি মায়া জড়ানো থাকে।
শুকনো পাতার মর্মর ধ্বনি
বেজে উঠে কোন সুরে,
হিজল, তমাল, শালের ছায়াতে
ডেকে নেয় সেই দূরে।
আঁকা বাঁকা সরু পথগুলো
মিশে গেছে ঐ সীমানায়,
ছায়াবীথি ঘেরা সবুজ বনানী
ডাকে তবু কোন ইসারায়।
ঘাসের শিশির পায়েতে জড়ায়ে
তবু হেঁটে চলে যাই,
রংধনু এসে হৃদয় ভরালো
তারই পানে ফিরে চাই।
বিদায় ঘন্টা
হাকিকুর রহমান

হঠাৎ করে বেজে উঠলো বিদায় ঘন্টা,
কে বা কারা যেন চিরতরে হারিয়ে যাবে
তার আগাম বার্তা জানালো।
ঐ যে আকাশে একাকী উড়ে চলা চিলটা,
নাকি তালগাছের মাথায় গুমরে বসে থাকা বুড়ো শকুনটা,
নাকি অন্তরের মাঝখানে সাজিয়ে রাখা স্মৃতিগুলো।
গাছের ছায়ে দাঁড়িয়ে দেখি,
পুরো পৃথিবীটাই আবার নতুন করে ঘুরে উঠলো,
আর নিউটনের তৃতীয় সূত্রমতে-
প্রত্যেক ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়ার মতো,
কর্মকান্ডগুলো নড়ে চড়ে উঠলো।
আবার হঠাৎ করে,
বাতাস, মেঘ, রৌদ্র, বৃষ্টি, ঝড়,
সব মিলেমিশে একাকার হলো।
আর গলির মোড়ে দাঁড়ানো,
শীর্ণকায় ক্ষুধার্ত শিশুটা কেঁদে উঠে বলে উঠলো-
“এক মুঠো অন্ন চাই!”
কে জানি
হাকিকুর রহমান
জ্যোৎস্না উধাও হলো,
সাথে করে নিয়ে গেলো তমসাকে-
বালি ঝুমকোটা কে জানি কানে চড়ালো,
শূন্য হাসি হেসে,
ভীরুপায়ে কে এসে দাঁড়ালো চৌকাঠের কোণে।
রূপালী চাঁদ,
সেতো চিত্রকরের ক্যানভাসেই শোভা পায়।
ন্যাড়া বেলতলায়, কিম্বা দারুচিনি বনের ধাঁরে,
কেউ কি কারো জন্যে অপেক্ষায় থাকে?
ঠুনকো যুক্তি দিয়ে,
কিসের স্মৃতিকে ধরে রাখা!
ওদিকে শানকিতে, জল ঢালা ভাতগুলো
লেজকাটা কুকুরটা লোপাট করে দিলো,
আর আমি তমসার নীচে দাঁড়িয়ে,
সেক্সপিয়ারের গীতিকাব্য আউড়িয়ে ফিরি।